সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ব্যবসায়ীরা

1 week ago 11
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেশে এক সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ চলছে। এ অবস্থার মধ্যেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে মার্কেট খোলা রাখার দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করছেন মার্কেট ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা। গতকাল বুধবারও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের সঙ্গে হয়েছে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠক হয়েছে। শিগগিরই মার্কেট খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে। সরকারের কাছে ব্যবসায়ীদের দাবি তুলে ধরা হয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন আমাদের সময়কে জানান, আমরা আজ (বুধবার) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনায় বসেছিলাম। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে দাবি তুলে ধরেছি। প্রতিমন্ত্রী আমাদের বলেছেন- এ বিষয়ে আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) আলোচনায় বসবেন তারা। পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন বলেন, বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী আমাদের জানিয়েছেন- রাজধানীতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি, তাই জনসমাগম কমাতেই মূলত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর পরও ব্যবসায়ীদের দিকটিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে কিনা জানতে চাইলে শাহীন বলেন, করোনা সংক্রমণের মতো নাজুক পরিস্থিতিতে আমরা কখনই বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মানববন্ধন চাই না। আমরা প্রথম দিনই যা আন্দোলন করার করেছি। এর পর মূলত বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসায়ীরা নিজেদের মতো করে আন্দোলন করছেন। এ ব্যাপারে আমাদের বলার কিছু নেই। আমাদের পক্ষ থেকে এটুকু বলতে পারি- আমরা আশাবাদী, দ্রুতই সরকারের কাছ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মার্কেট খোলা রাখার সিদ্ধান্ত পাব। দোকান মালিক সমিতির নেতা হেলাল উদ্দিনও বলেন, যদিও অনেক এলাকায় এখনো ব্যবসায়ীরা আন্দোলন করছেন। কিন্তু দেশের এমন পরিস্থিতিতে এটি আমাদের কাম্য নয়। আমরা ইতোমধ্যে সব ব্যবসায়ীর ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছি। আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। অবশ্যই সরকার ব্যবসায়ীদের দুর্দশা বিবেচনা করে আমাদের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বল্প পরিসরে দোকান খুলতে পারব আমরা। গতকাল সকালেও রাজধানীর গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়া এলাকায় সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন করেন সেখানকার মার্কেট ব্যবসায়ীরা। এতে প্রায় ঘণ্টাখানেক আশপাশের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কর্মসূচির একপর্যায়ে বিআরটিসি কাউন্টারের সামনের সড়কে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন আন্দোলনকারীরা। পরে পুলিশও ধাওয়া দিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। বঙ্গবাজার কমপ্লেক্সের পিসটন ফ্যাশনের ব্যবসায়ী মো. আশরাফুল হক পলাশ বলেন, বইমেলা খোলা, সিনেমা হল, কলকারখানা খোলা অথচ মার্কেট বন্ধ- এ কেমন বিচার। আমরা তা হলে বেচে থাকব কীভাবে। মানববন্ধনে ঢাকা রেডিমেড গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. আবদুল মান্নান বলেন, দুই-এক দিনের মধ্যে দোকান খুলতে না দিলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন ব্যবসায়ীরা। নিউ সুপার মার্কেট (দক্ষিণ) বণিক সমিতির সভাপতি শহীদুল্লাহ শহীদ বলেন, ব্যবসায়ীদের তো পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে। দোকান বন্ধ থাকলে সংসার চলবে কী করে। ব্যবসায়ী নিরুপায় হয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। শপিংমল খুলে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন যমুনা ফিউচার পার্কের ব্যবসায়ীরাও। গতকাল সকালে প্রগতি সরণিতে জড়ো হন তারা। এ সময় তারা বলেন, সব কিছু খোলা থাকলে শপিংমল কেন বন্ধ রাখা হবে। গতবার লকডাউনে ব্যবসায়ীদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এবারও লকডাউন চললে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে নয়।
Read Entire Article