নরমুণ্ডু কেটে দেওয়ালে ঝোলানোতেই বিশেষ “সুখ” এদের!

1 week ago 39

দিসপুর: বাগবিতণ্ডায় মাঝে মাঝেই আমরা বলি মুন্ডু ফাটিয়ে দেব বা মাথা কেটে নেবো। এই জাতি সত্যি সেটাই করে। এদের মূল উদ্দেশ্যই হল সামনের ব্যক্তির মাথাটা কেটে নিয়ে ঘরের শোভা বর্ধন করা অথবা স্বজাতির কোনো তরুণীর মন জয় করা। সত্যিই ব্যাপারটা রীতিমত পিলে চমকে দেওয়ার মতোই ঘটনা। এই মুণ্ডু কেটে নেওয়ার রীতি বা কেতাবী ভাষায় যাকে বলে ‘হেডহান্টিং’ সেটা কোনো নতুন ঘটনা না। বস্তুত আমেরিকা, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ, ইউরোপ আর এশিয়ার অনেক অঞ্চলেই এমন অদ্ভুত ও ভয়ানক সংস্কৃতি প্রচলিত ছিল।

আবার ভারতের মধ্যে আসামের ব্রক্ষপুত্র নদের দক্ষিণে বহু আদিবাসী এই মুণ্ডু কাটার নেশায় জড়িয়ে পড়েছিল একটা সময়ে। এই সাহসী ও দুর্ধর্ষ জাতির নাম “নাগারা”। ১৯৪০ এর দশকে ভয়ংকর এই চর্চা আইন করে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ততদিন পর্যন্ত কোন্যাকদের মধ্যে লড়াই মানেই প্রতিপক্ষের মুণ্ডু শিকার। সেই গোত্রের লোকের কাছে এটাই বীরত্বের পরিচয়। মুণ্ডু শিকারি তরুণ যোদ্ধাকে সেই গোত্রের লোকেরা অভিষিক্ত করতো তার মুখে নানা উলকি এঁকে দিয়ে। এমন উলকি দেখলেই বিপক্ষের যোদ্ধারাও বুঝতে পারতো অপর যোদ্ধার সামাজিক মর্যাদা।

আরো পোস্ট- জাগ্রত মন্দিরে গেলেই অপেক্ষা করছে মৃত্যু!

নিষিদ্ধকরণের পরও নাগাল্যান্ডে এমন নরমুণ্ডু শিকারের হদিশ শেষ পাওয়া গিয়েছে ১৯৬৯ সালে। মহিষ, হরিণ, বনগাই, বন্য শূকর আর ধনেশের মাথার খুলি আর হাড় দিয়েই সাজানো থাকে সব কোন্যাকের বাড়ির দেওয়াল। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শিকারের বীরগাঁথার প্রমাণ যেন এসব হাঁড়গোড় ও কঙ্কালেই রয়েছে। কোন্যাকদের বার্ষিক শিকারের দিনে এসব স্মারকের পাশাপাশি বধ করা শত্রুর মাথার খুলিও রেখে দেওয়া হতো তাদের বীরত্বের তালিকায়। তবে নরমুণ্ডু শিকার নিষিদ্ধ হওয়ার পর অনেক কোন্যাকই তাদের শিকার করা শত্রুদের মাথার খুলিগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলেছে। নাগারা যেহেতু যোদ্ধা জাতি তাই তাদের সমাজে কন্যা সন্তানের চেয়ে পুত্র সন্তানের কদর বেশি। তবে মেয়েদেরকেও যথেষ্ঠ সম্মানের চোখে দেখা হয়। নাগা মেয়েরা মূলত কাপড় বোনে আর কৃষিকাজে সাহায্য করে তাদের পরিবারকে।

The post নরমুণ্ডু কেটে দেওয়ালে ঝোলানোতেই বিশেষ “সুখ” এদের! appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.

Read Entire Article